সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে বদলে গেল মেয়ের জীবন। কথায় আছে যার কেউ নাই তার আছে ঈশ্বর। এক প্রকার অর্থের অভাবে মাঝ পথেই পড়াশোনা বন্ধ হতে চলেছিল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিহরপুর এলাকার মেধীবি ছাত্রী জয়া বর্মনের। এক প্রকার ঈশ্বরের দূত হিসাবে তার পাশে এসে দারান পাড়ার মামা জয়ন্ত বোস। জয়ন্ত বাবু সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ফেসবুকে জয়ার অবস্থা তুলে ধরেন।এরপর জয়ন্ত বাবুর ফেসবুকে দুস্থ্য মেধাবী ছাত্রী জয়ার বিষয়টি জানতে পারেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া থানার ওসি পিনাকি সরকার। তিনি জয়ার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। সেখানেই শেষ নয় পিনাকি বাবু দুস্থ মেধাবী ছাত্রী জয়ার পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার কথা জানতে পেরে তার ক্ষুদ্র সামর্থের মধ্যে আগামী দুবছর ওই ছাত্রীর পড়াশুনার সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন।
অতন্ত দুস্থ্য পরিবারের মেয়ে জয়া। বাবা ভুটু বর্মন শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য থাকার জন্য বাড়িতেই থাকেন। মা ভুলনা বর্মন বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। সময়ে মার সাথে মাঝে মধ্যে বাসা বাড়িতে কাজ করতে যায় জয়া। জয়া ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনায় মেধাবী ছিল। কালিয়াগঞ্জের লক্ষ্মীপুর মহিম চন্দ্র বিদ্যালয়ের ছাত্রী জয়া। এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জয়া তার বিদ্যালয় থেকে প্রথম হয়। মেধাবী ছাত্রী জয়া বর্মন এবছর মাধ্যমিকে পরীক্ষায় ৭টি বিষয়ে মধ্যে ৪টি বিষয়ে লেটার মার্কস সহ ৫৬০ নম্বর পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষাই ভাল ফল করেও উচ্চ মাধ্যমিকের পড়া প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল জয়ার।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে চাকুলিয়া থানার ওসি পিনাকি সরকার জয়ার পাশে থাকার আশ্বাস পেতেই আনন্দে মাতোয়ারা জয়া ও তার পরিবারের লোকেরা। ইতিমধ্যেই পিনাকি বাবু তার কথা মতো নিজে না আসলেও সুজিত সরকারের হাত দিয়ে জয়ার পরিবারের কাছে পড়াশোনার জন্য বই পত্র কিনার জন্য ৬ হাজার টকা পাঠিয়েছেন। এবং ফোনে শুভকামনা জানিয়েছেন জয়াকে। আগামীতে তিনি তার সাথে দেখা করবেন এবং তার আগামী দুই বছরের পড়া শুনার খরচ চালাবেন বলে জানা যায়।
জয়া জানান তার মা বাসা বাড়িতে কাজ করতে চলে জেতেন সেই সময়ে সে বাড়ির কাজ করে যতটা সময় পেত তার মধ্যে বই নিয়ে পড়াশোনা করত।সে আগামীতে বাইলোজি নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। পড়াশোনা করে সে আগামীতে নার্স হতে চায়। কারন নার্সের কাজটি সেবা মূলক কাজ। আজ তার পড়াশুনার জন্য অনেকেই তার সাহায্য করেছে। তেমনি সে আগামীতে মানুষের সেবা করতে চাই নার্স হয়ে।
পাড়ার মামা জয়ন্ত বোস তিনি ফেসবুকে পোষ্ট করেছিলেন।তিনি জানান দুস্থ্য মেধাবী ছাত্রীর ছবিটি তিনি সোসাল মিডিয়ায় পোষ্ট করেছিলেন, যাতে কোন সহ্রদয় ব্যক্তি তার পাশে দাড়ায়। আর মেধাবী ছাত্রীর পড়াশোনা মাঝ পথে বন্ধ না হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্টটি দেখার পর এক সময় চাকুলিয়া থানার ওসি পদে নিযুক্ত অফিসার পিনাকি সরকারের টেলিফোন আসে জয়ন্ত বোস এর কাছে। তার সাথে এবং জয়ার সাথে টেলিফোনে কথা বলেন পিনাকী বাবু। এবং তার আগামী দুই বছরের পড়াশোনার ব্যায় ভার নিজের দায়িত্বে নেন। পিনাকি বাবুর এই উদ্যোগকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তার সাহায্যের কারনে মেধাবী জয়ার পড়াশোনা বন্ধ হবে না। ইতি মধ্যেই তিনি সুজিত বাবুর হাত দিয়ে বই পত্র কেনার জন্য ৬ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।এই সাহায্য পেয়ে অত্যন্ত খুশি জয়া ও তার পরিবার।